জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:
টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্টে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা ও নোহা গাড়িসহ ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী একজনকে আটক করেছে বিজিবি।
আটক ব্যক্তি একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি বলে জানিয়েছে বিজিবি। তিনি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার পশ্চিম সিকদারপাড়া গ্রামের হাফেজ মুহাম্মদ নুরের ছেলে মোহাম্মদ আনোয়ার (৫৬)। এর আগে তার বড় ভাই মোহাম্মদ তৈয়ব বিমানযোগে ইয়াবা পাচারের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৫ মে ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটে হ্নীলা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী একটি নোহা গাড়ি হোয়াইক্যং চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্য এবং বিজিবির নারকোটিক্স ডগ ‘হেনরি’ তল্লাশি কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় গাড়িচালক নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং জোরপূর্বক চেকপোস্ট অতিক্রমের চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন।
পরবর্তীতে তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে দুটি ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডগ ‘হেনরি’র সহায়তায় গাড়ির পেছনের সিটের কভারের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পাচারে ব্যবহৃত নোহা গাড়ি এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড (আইফোন) মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি ইয়াবাগুলো হ্নীলা থেকে সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
উখিয়া বিজিবির অধিনায়ক বলেন, “মাদক সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”
এদিকে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্রসহ ইয়াবা পাচারকারী আটক হওয়ার ঘটনায় টেকনাফজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সংবাদপেশার নাম ব্যবহার করে অসাধু ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
